হান্নেলোর চিরতরে হারিয়ে যাওয়া ১৯৯৬ Everest Disaster-এর এক করুণ অধ্যায়
হিমালয়ের রুক্ষ বুক, বিশ্বের ছাদ মাউন্ট এভারেস্ট। এই পর্বতশৃঙ্গ জয় করার স্বপ্ন দেখেন অসংখ্য সাহসী হৃদয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের মে মাসে এভারেস্টের ইতিহাসে এক গভীর শোকের দাগ কেটে যায়। সেই ভয়াবহ দিনগুলোর এক করুণ কাহিনী হল জার্মান পর্বতারোহী হান্নেলো শ্যাটজেনহফার (Hannelore Schmatzhofer) এর মৃত্যু। তার মৃতদেহ আজও এভারেস্টের বরফে চিরতরে হারিয়ে আছে, যা পর্বতারোহণের বিপদ ও প্রকৃতির নির্মমতার এক মর্মান্তিক সাক্ষী। এই Everest tragedy এখনও আলোচিত হয়।
১৯৯৬ সালের মে মাস। হান্নেলো শ্যাটজেনহফার তার স্বামী গেরহার্ড শ্যাটজেনহফারের (Gerhard Schmatzhofer) সাথে যৌথভাবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার লক্ষ্যে রওনা হন। তারা অংশ নিয়েছিলেন একটি বাণিজ্যিক অভিযান দলের (commercial expedition team) সাথে। তাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছানো।
কিন্তু ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না। শৃঙ্গজয়ের প্রচেষ্টা চালানোর সময়, হঠাৎ করেই এভারেস্টের দুর্বিষহ আবহাওয়া (extreme weather) মারাত্মকভাবে খারাপের দিকে মোড় নেয়। তীব্র তুষারঝড় (blizzard), হিমশীতল বাতাস (freezing winds) এবং শূন্য দৃষ্টিসীমা (zero visibility) পরিস্থিতিকে করে তোলে প্রাণঘাতী। এই আকস্মিক আবহাওয়ার অবনতি (sudden weather deterioration) ছিল ১৯৯৬ সালের সেই কুখ্যাত মে মাসের দুর্যোগের অংশ, যাতে একসাথে ৮ জন পর্বতারোহী প্রাণ হারান – এটি সেই সময়ের জন্য একটি ভয়াবহ রেকর্ড ছিল।
এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে, হান্নেলো ও তার দল বিপদে পড়ে যান। ক্লান্তি, ও অক্সিজেনের অভাবে (oxygen deprivation) এবং চরম ঠান্ডায় জর্জরিত হয়ে হান্নেলো দক্ষিণ-পূর্ব রিজ (Southeast Ridge) এলাকায়, বিশেষ করে দক্ষিণ শৃঙ্গের (South Summit) কাছাকাছি "ইয়েলো ব্যান্ড" নামক এলাকায় আটকা পড়েন। প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং শারীরিক শক্তি হারিয়ে তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।
এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হল হান্নেলোর মৃতদেহ কখনই উদ্ধার করা যায়নি (body never recovered)। এভারেস্টের চরম উচ্চতা, বিপজ্জনক অবস্থান এবং অবিরাম তুষারপাত তার দেহটিকে চিরতরে গ্রাস করে নিয়েছে। তাকে সেখানেই সমাহিত করা হয়েছে বরফের নিচে। অন্যদিকে, তার স্বামী গেরহার্ড অলৌকিকভাবে সেই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফিরতে পেরেছিলেন (husband survived), কিন্তু স্ত্রীকে চিরতরে হারানোর বেদনা তাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়েছে।
হান্নেলোর মৃত্যু ছিল ১৯৯৬ সালের মে মাসে এভারেস্টে ঘটে যাওয়া একের পর এক মৃত্যুর ধারাবাহিকতায় একটি। এই মাসটি "এভারেস্টের সবচেয়ে ভয়াবহ মাস" হিসেবে কুখ্যাতি পায়। রব হল, স্কট ফিশার, ডগ হ্যানসেন, অ্যান্ডি হ্যারিস সহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়।
এভারেস্টে পর্বতারোহণের সাথে মৃত্যুর ঝুঁকি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পরিসংখ্যান (Everest death statistics) বলছে, ১৯২৪ সাল থেকে এভারেস্টে ৩০০ জনেরও বেশি পর্বতারোহী ও শেরপা প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকের দেহই উদ্ধার করা যায়নি এবং "গ্রিন বুটস", "রেইনবো ভ্যালি"-র মতো জায়গায় তারা স্থায়ী স্মৃতিচিহ্নে পরিণত হয়েছেন।
নেপাল সরকার (Nepal government) এবং তিব্বত কর্তৃপক্ষ পর্বতারোহণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা (safety regulations) আরও কঠোর করার চেষ্টা করে আসছে, তবে বিপদ কখনই শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মৃতদেহ উদ্ধারের প্রচেষ্টাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল, প্রায়ই তা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
হান্নেলো শ্যাটজেনহফারের করুণ পরিণতি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি এভারেস্টের নির্মম সত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির অপ্রতিরোধ্য শক্তি (nature's power) এবং মানুষের সীমাবদ্ধতার কথা। চূড়ান্ত উচ্চতার সেই বরফের রাজ্যে, স্বপ্ন অনেক সময় মৃত্যুর সাথে হাত মেলায়। হান্নেলোর নাম, তার স্বপ্ন এবং তার চিরন্তন বিশ্রামস্থল এভারেস্টের বরফে ঢাকা সেই পথ, পর্বতারোহণের ইতিহাসে এক মর্মস্পর্শী ও সতর্কতামূলক অধ্যায় হিসেবে চিরকাল লেখা থাকবে। তার হারিয়ে যাওয়া দেহই হয়ে আছে চরম উচ্চতায় মৃত্যুর নির্মম প্রতীক (symbol of mountain tragedy)।

Hi Today gk guide Viewer please, Do Not Spam In Comments